মিটিং-মিছিল সবই হচ্ছে লক্ষ্য অর্জন হয়না কেন?

  • 412
    Shares

মাওলানা আবদুর রাজ্জাক।

১. দেশের আনাচে – কানাচে, শহরে- বন্দরে, জেলা- মহানগরে। প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, ঘেরাও কত কিছু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিকট কতজনে কতভাবে দাবি করছে। কতজনে কতভাবে আবদার করছে। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী কি শুনেছেন তাওহিদবাদীদের প্রতিবাদের কোন আওয়াজ?

তিনি কি অন্তত ফ্রান্সের রাস্ট্রদূতকে ডেকে একটা প্রতিবাদ করতে পারতেন না? পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। করবেন বলেও মনে হয়না।
তাহলে আলেমদের মিত্র দল যদি ক্ষমতায় থাকতো তাহলে তাওহীদি জনতার প্রত্যাশা কি পূরণ হতো? সোজা জবাব হতো না।

২. রাস্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত নেই। গায়রুল্লাহর প্রভুত্ব ভিত্তিক রাস্ট্র ব্যবস্হা প্রতিষ্ঠিত। রাসূলুল্লাহর আদর্শের বাস্তবায়ন নেই। আছে লেলিন, কালমাক্সের আদর্শের বাস্তবায়ন। ৯২ ভাগ মুসলমানদের দেশে , কুরআন-সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক সংবিধান প্রতিষ্ঠিত। এটা কি ইসলাম, মহানবী সা., কুরাআন-সুন্নাহর অবমাননা নয়?

৩. আমরা যারা বিক্ষোভ করছি। ঘেরাও করছি। বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছি। মূল পরিবর্তনের চিন্তা, চেষ্টা – প্রচেষ্টা কি আমাদের আছে? নেই। কেন নেই? আমরা কি ইসলাম বুঝিনা? না বোঝার তো কোন কারণ নেই। তাহলে আমাদের উদাসীনতা কোথায়?

৪. আমরা নবীজী সা.এর ইজ্জত রক্ষার আন্দোলনকে ঈমানী আন্দোলন মনে করি। কিন্তু গায়রুল্লাহর প্রভুত্ব ভিত্তিক রাস্ট্র ব্যবস্হা পরিবর্তনের আন্দোলনকে ঈমানী আন্দোলন তো মনে করিনা। বরং রাজনৈতিক আন্দোলন আখ্যা দিয়ে উপেক্ষা করি। আমাদের কেউ কেউ আমি “রাজনীতি করিনা” ঘোষণার মাধ্যমে বরং ইসরামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছি। ক্ষেত্র বিশেষ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছি।

৫. আমরা যদি নবীজী সা. এর ইজ্জত রক্ষার আন্দোলনে সফল হতে চাই। যে কোন বাতিলের বিরুদ্ধে যদি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে চাই।
যদি নাস্তিক, মুরতাদদের মূলোৎপাটন করতে চাই।
তাহলে রাস্ট্র নামক যন্ত্রটিকে নিজেদের অধিকারে আনতে হবে।

আর এই মূল পরিবর্তনের আগে নিজেদের চিন্তার পরিবর্তন করতে হবে। প্রয়োজনে পদ্ধতির বিষয়েও আলোচনা করে নিতে হবে।

  • 412
    Shares