ঈমানী চেতনা জাগানিয়া এক বিপ্লবী শ্লোগান ‘তাকবিরে তাশরিক’

মাওলানা আবদুর রাজ্জাক

আমরা মুসলিমরা অনেক কিছু করি, মন থেকে করি না। অনেক কিছু বলি, মন থেকে বলি না। আমরা তাওবার কালিমা পড়ে কিন্তু অন্তরে পাপাচার ত্যাগের সংকল্প করিনা। মুখে মুখে রবের বড়ত্বের ঘোষণা দিই। কিন্তু রবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিতার স্পৃহা অন্তরে লালন করি না। যেমন আমরা জিলহজ্বের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রতিটি মুসলিম নর-নারী, ফরয সালাত শেষ করে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করবো।

কিন্তু এই তাকবিরে আমরা কি বলছি? কেন বলছি? তা অন্তরে ধ্যান করিনা। যে কারণে আমাদের ঈমানী চেতনা জেগে উঠে না।

মহান খালেকে কায়েনাতের নির্দেশ পালনে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এবং তার সন্তান হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম এর জবেহ করার এবং জবেহ হবার দৃশ্য অবলোকন করে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বলে উঠেছিলেন:……. আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার অর্থাৎ আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

আর হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম মহান খালেকে কায়েনাতের নির্দশ পালেন উৎসর্গ
হতে পেরেছেন এই হিসেবে বলে উঠলেন —– লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার অর্থাৎ আল্লাহ একমাত্র ইলাহ এবং আল্লাহ সব চেয়ে বড়।
আর হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম মহান রবের নির্দেশ পালনের শোকরগুজারি হিসেবে বলে উঠলেন আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ অর্থাৎ আল্লাহ সবচেয়ে বড় এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর।

এই তাকবীর আমরা মুসলিম নর-নারীরা পাঠ করি। কিন্তু তার মর্ম উপলব্ধি করার কোনো চেষ্টা করি না। মুখে আল্লাহর বড়ত্বের স্বীকৃতি দিচ্ছি। কিন্তু আল্লাহর বড়ত্ব প্রতিষ্ঠার কোন চেষ্টা-সাধনা আমরা করিনা। এমনকি গাইরুল্লাহর বড় প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে, সেজন্য আমরা কোন আক্ষেপও করিনা। আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হলো; মুসলিম দাবি করেও অনেক মুসলমান আজ গাইরুল্লাহর বড়ত্ব প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত।

অথচ মহান আল্লাহ কালামে পাকে ঘোষণা করেছেন.: ” ওয় রাব্বাকা ফা কাব্বির” তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো “। আজ আমরা মুখে যা পাঠ করি তার মর্ম যদি উপলব্ধি করতাম। জবানের যা উচ্চারণ করি তা বাস্তবায়নের সংকল্প এবং সাধনা যদি করতাম। তাহলে আজ নমরুদী শাসনের ধ্বংসস্তূপের উপর খোদায়ী হুকুমতের বিজয় নিশান উড়াতে পারতাম।

আজ যে বাবা ইব্রাহিম ও ইসমাইলের স্মৃতিচারণে আমরা তাকবির বলছি, সেই তাদের ত্যাগ ও কুরবানীর ছিঁটে-ফোঁটাও যদি আমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকতো। তাহলে আমরা কুফুরী শাসন ব্যবস্থার তখত- তাউজকে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করে হুকুমতে এলাহিয়্যা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রত্যয়ী হতাম।

তাই আসুন হে মুসলিম উম্মাহর তরুণ প্রজন্ম! তাকবিরে তাশরীকের” ঈমানজাগানিয়া শ্লোগানে ‘র মর্ম উপলব্ধি করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে
মহান রবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসি।

লেখক: সম্পাদক, দেশ দুনিয়া নিউজ