ইসলামী আন্দোলন এর নেতারা সবচেয়ে বেশী ধৈর্য্যশীল ও উদার

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
  • 288
    Shares

আমিনুল ইসলাম কাসেমী

বিষয়টা অনেক চমকপ্রদ। আমি চরমোনাই করি, আবার হেফাজতের সাথে জড়িত। হেফাজতকে ভালবাসি। কেননা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নবীপ্রেমিকদের সংগঠন। আমি একজন আশেকে নবী। তাই আমি হেফাজতে ইসলাম করি।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমি হেফাজতের কর্মি, হেফাজতের নেতা, তবে চরমোনাইকে দেখতে পারি না। আমি হেফাজতের নেতা হয়ে দাবী করি, আমি অরাজনৈতিক সংগঠন করি। কিন্তু চরমোনাই হল রাজনৈতিক সংগঠন, তাই ঐ দলের ধারে কাছে যাওয়া যাবে না। একারণে চরমোনাই-এর গন্ধ যার মধ্যে আছে, তাকে হেফাজতে রাখা যাবে না।

এ কারণে কিন্তু চরমোনাইকে রাখা হয় না। চরমোনাই এর ভায়েরা, আপনারা হয়ত ভাল করে বুঝেছেন। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, চরমোনাই এর পীর সাহেব এবং তাঁর সংগঠনের নেতারা এই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী ধৈর্য্যশীল এবং উদার। এরকম উদার এবং ধৈর্য্যের পাহাড় নিয়ে চলা সংগঠন অত্র বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। এবং চরমোনাইওয়ালারা সত্যিকার রাজনীতিবিদ, সাংগঠনিক, তা আবারও প্রমাণিত হল।

কেননা, চরমোনাইকে বলা যায়, বর্তমান সবচেয়ে বড় ইসলামী সংগঠন। এদেশে এর থেকে বড় কোন ইসলামী সংগঠন আর এদেশে নজরে পড়ে না। বিগত নির্বাচনে তিনশত আসনে নমিনেশন দিয়েছিল তারা। প্রধান দল আওয়ালীগ,বিএনপির পরেই তাদের অবস্হান। তাছাড়া অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ রয়েছে এসংগঠনে।

চরমোনাই কোন লেজুড় ভিত্তিক সংগঠন নয়। কারো ঘাড়ের উপর সওয়ার হয়ে রাজনীতি করেনা। কোন দলের হুকুমের গোলাম নয়। ইলেকশনের সময় অন্যের কৃপা হাসিলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। নির্বাচনে মাঠে প্রচার – পাবলিসিটির জন্য অন্যের কাছে তারা হাত পাতে না।

আরো অবাক হবেন, চরমোনাই কখনো তাদের আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে বাতিলের সাথে হাত মেলায় না।যেমনটি অন্য ইসলামী দল করে থাকে। চরমোনাই কারো পরগাছার রাজনীতি করে না। চরমোনানাই হল, হক- হক্কানিয়্যাতের উপর অটল- অবিচল। সেই সংগঠনের জন্ম থেকে হকের উপর দন্ডায়মান, আজো সেই হক নীতিতে।

এক বিশাল কাফেলা। যে কাফেলা দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে। সুতরাং এই কাফেলার লোক যদি অন্যত্র যায়, সেটা বড় বেমানান। ভাল দেখায় না।

দেখুন! আজ অন্য ইসলামী সংগঠনের কি শোচনীয় অবস্থা। বড় অসহায়ত্বের মধ্যে তারা থাকে। নির্বাচন আসলে দেখা যায় তাদের অসহায়ত্ব। কত কাকুতি- মিনতী করে নমিনেশনের জন্য। বড় দলগুলো তাদের শর্ত- শরায়েত দেয়। মেনে নিতে হয়।

উচিত ছিল, আমরা হুজুররা ঐ সব দুনিয়াদারদের শর্ত দেব। কিন্তু ওরাই এখন আমাদের শর্ত দেয়। যা বলে তাই মেনে নিতে হয়। এদিকে মিটিং হয় এক কথার উপর, কিন্তু ওদের কাছে গিয়ে সব শেষ। ওদের কাছে নতি স্বীকার করে চলে আসেন আমাদের বুজুর্গরা।

যাইহোক, হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আল্লামা আহমাদ শফি রহ.। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চালাতেন। কিন্তু কালক্রমে এটার সাথে যোগ হল কিছু রাজনৈতিক নেতা। যারা এই মোবারক সংগঠনকে মিসগাইড করেছিল। অবশ্য তাদের অধিকাংশ প্রায় ফাইনাল। জাতির কাছে এখন প্রত্যাখ্যাত।

আল্লামা আহমাদ শফির ইন্তেকালের পর আবার হেফাজতের কাউন্সিল হল। এবার নতুন কমিটি।

এবারো কিছু ইসলামী সংগঠনের নেতা- কর্মি যোগ হয়েছে হেফাজতে। কিছু মুরুব্বী আছেন, যারা আমাদের ছারে তাজ। তাদের ব্যাপারে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু তাদের আশে পাশের লোকদের নিয়ে কিছু সমস্যা থাকে। যেমনটি আল্লামা শফি সাহেব রহ.-এর জমানায় ছিল। তারা আল্লামা আহমাদ শফিকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিল। বর্তমানে ঐ ধরনের কিছু লোককে মুরুব্বীদের আশে পাশে দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা কিন্তু ঐ ধরনের কোন বদগোমানী করতে চাই না। তবে সতর্ক থাকতে হতে হবে মুরুব্বীদের।

হেফাজতের কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকে ফেসবুকে আলোচনা- সমালোচনা বয়ে যাচ্ছে।বিশেষ করে চরমোনাইকে নিয়ে বেশী আলোচনা হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, চরমোনাই এর কাউকে কেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হল না। এব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর বিশ্লেষণ হচ্ছে। পক্ষ- বিপক্ষের কর্মিদের কথা চালাচালি হচ্ছে।

চরমোনাই এর নায়েবে আমীর আরো উদারতা দেখালেন, তিনি বলেন, হেফাজতের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আল্লাহু আকবার” লিডার কাকে বলে। উদারতা কাকে বলে, তিনি দেখালেন। যেখানে পুঁচকে পুঁচকে মৌলভী সাহেবদের হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু চরমোনাই এর সংগঠনের কাউকে কোন পদে দেওয়া হয় নি। তারপরেও পীর সাহেব খামোশ।কোন কথা বলেন নি। বরং বললেন, হেফাজতের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই।

সত্যি তিনি রাজনীতিবিদ। তাঁর হৃদয় সংকীর্ণ নয়। যেমন ওনারা সংকীর্ণতার কারণে আজো চরমোনাইকে দূরে রেখেছেন। কিন্তু চরমোনাই এর কোন আফসোস নেই।

বরং চরমোনাই হেফাজতের কল্যাণকামী। তারা হেফাজতের অগ্রগতি চায়। যদিও আজ কিছু লেজুড়ভিত্তিক সংগঠকদের হাতে হেফাজত বন্দী হয়ে গেল। তবুও আমরা হেফাজতের কল্যাণকামী। তাই বলতে ভয় নেই, আমি চরমোনাই আমি আবার হেফাজতের কর্মি। হেফাজতের মঙ্গল কামনা করি। আল্লাহ তায়ালা এ সংগঠনকে ভরপুর কামিয়াব দান করেন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

সূত্র: পাথেয়২৪

  • 288
    Shares